Sunday, November 24, 2024

অর্ণেশের আইবুড়ো-ভাত

 আমাদের Sunday-Evening গ্রুপের প্রথম উইকেট পড়বে পড়বে করছে | সেই উপলক্ষ্যে গাঁট-ছড়া বাঁধার আগে  অর্ণেশ আর শ্রদ্ধাকে নিয়ে লেখা এই শুধু ছড়া | ক্যাম্পাসেই প্রেমের কিছু কিছু গল্প এতে তুলে ধরা রইলো |

____________________________________________

|| অর্ণেশের আইবুড়ো-ভাত ||

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


শুনুন শুনুন শুনুন!


"বাজবে সানাই, সামনে শীতে" - প্রজাপতির বার্তা

ধৈর্য্য ধরুন, বলব সবই -- কোথায় ? কবে ? কার ? - তা !


বোলপুরের অর্ণেশ আর পাত্রী ভিনরাজ্যের 

এতসবের আয়োজন, আইবুড়োভাত আজ যে !


জৌনপুরের শ্রদ্ধা - তারা খানদানি ত্রিপাঠী !

কানপুরেই যোগাযোগ, পেয়েছে জীবনসাথী


অমলতাসের ছায়ায়, ক্যান্টিনে, ক্যাফেতে

"প্রথম দেখা"র দিন তুলে রাখে ম্যাপেতে !


গোপনে প্রেমটা শুরু, জানে না কাক পক্ষী

টের পেয়ে নীলগাই, হলো দেহরক্ষী !


ক্লাস কেটে সিনেমা আর ল্যাবে তালা বন্ধ

কি যে তার রহস্য, প্রেম-প্রেম গন্ধ । 


ছবি আঁকে ফাটাফাটি, শাকাহারী শ্রদ্ধা

কাঁটা মাছ বেছে দিয়ে, হলো সহযোদ্ধা ।


অগোছালো ঘরখানা, দিলে ভারী গুছিয়ে

ইঁদুরের পরিবার ছোটে ল্যাজ উঁচিয়ে !


এভাবেই দুজনেতে, চলে নানা ছন্দে

চার হাত এক হবে, নেই কোনো ধন্দে !


আজ থাক এইটুকু, ছোট ছোট গল্প  !

কাঁটা বাছাবাছি নেই , মাছ অতি অল্প ,


চিংড়ি মালাইকারি , তনয় যা দক্ষ !

ভাতের সুবাস ওঠে, মোহময় কক্ষ | 


কষা পাঁঠা, ভাজাভুজি, আর গোল্ড ফেলেকে

যতনে সাজিয়ে দি আইবুড়ো ছেলে কে ||



-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

[৯ই নভেম্বর , ২০২৪]

সুখের সময় শুরু 

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সিগারেট আগেই উড়ে গেছে 

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

ঋতমা আর তনয় - এর সাথে | সব রান্না এরা দুজন মিলে করেছে |

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

কিংশুক না থাকলে রান্নাটাই সময় মতো হতো না | চাল ধুয়েছে | সকালে উঠে সবজি(আলু) বাজার করেছে | 

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------




Wednesday, November 6, 2024

রান্না শেখা

____________________________________________

|| রান্না শেখা ||

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


ছোট্ট আমার হেঁশেলঘর , জাঁকজমকও কম 

হাতেখড়ি -- জল গরমে, পাকলে -- আলুর দম |

ছোটো থেকেই পেটুক ছিলাম, তাতেই শেখা শুরু,

দু-কান মুলে জানাই -- আমার মা-ই শিক্ষাগুরু |

মশলাপাতি  ঢেলেও, আমার রান্না ডাহা ফেল 

মায়ের হাতে খুন্তি দিলেই -- ভানুমতীর খেল !


ময়দা মাখা, লুচি বেলা, কেমন ছাড়ে তেলে !

হিং কচুরি হলো শেখা , গলবে মুখে দিলে !

ছাতু হোক, বা , আলু পেঁয়াজ, পেট খানাতে ঠুসে 

হাত জমেছে পরোটাতেও , খাবে আঙুল চুষে |

কাবলি -ছোলা বিরিয়ানী, কাছকি মাছের বড়া ,

না-'চা'-র দলে, পকোড়াটা ভাজতে হবে কড়া !

গরমকালে স্পেশাল মেনু - ওড়িয়া পান্তাভাত,

তালের পিঠে শিখতে গিয়ে হলাম কুপোকাত !

খুব বুঝেছি - গ্রীষ্মে, তালের পদগুলো সব সোজা ! 

তবু কেন বর্ষা এলেই, তালের বড় খোঁজা ?

এর চেয়ে তো শীতই ভালো, চড়ুইভাতি জমে ,

নলেন গুড়ের স্বাদে মাতি , শীত যেন না কমে !


এসব রান্না সহজ, মাছের ঝোলটা শেখা বাকি !

মা বললো - "এটাও সোজা ! দিচ্ছ কেন ফাঁকি ?"

যতই বানাই, স্বাদ খোলে না, আজব ব্যাপার সেকি !

খেলাম যেদিন তেলের ছ্যাঁকা , স্বাদ খুলেছে দেখি !

জড়িয়ে আমায় বললো মা যে - "এটাই ছিল বাদ !

মাছ ভাজতে ছ্যাঁকা খেলেই, খুলবে ঝোলের স্বাদ ||"



-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

[২৪শে অক্টোবর, ২০২৪]

Thursday, April 18, 2024

বেচুবাবু

 সতর্কীকরণ : এখানে বর্ণিত সমস্ত স্থান, কাল ও পাত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কোনরকম

সাদৃশ্য পেলে, তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয়।

_____________________________________________________________

------------------------------------------------------------------------
|| বেচুবাবু ||
------------------------------------------------------------------------
"বন্ধু-বান্ধব সদলবলে চলে আসুন লাইনে
চৌমাথা তে আসতে হবে, তারপরেতে ডাইনে। "
বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনী'র ভীষণ আকর্ষণে
স্মৃতি রোমন্থন হয়ে যাক সব বাঙালীর মনে।
খাবার দাবার প্রসাধনী সবের বিজ্ঞাপন
সেকাল-একাল বাঁধিয়ে রাখা - দেওয়াল, ঘরের কোণ,
টেবিল জুড়ে সাজিয়ে রাখা, নিজের লেখা বই
পংক্তিভোজন সত্যিই ভালো, শেষ পাতে "টক দই" !
অটোগ্রাফটা চাইতে হবেই, লাগলো বেজায় ভালো
ডায়েরি নিয়ে গেলাম কাছে, সঙ্গে কলম কালো !
চশমা চোখে প্রশ্ন এলো "তুমি কি এসব জমাও?"
শুরুর দিকে রেগে গেলেও, করে দিলেন ক্ষমাও।
অমায়িক এই ব্যবহারে, ধন্য হলাম আমি
"আসল কথা - সইটা আমার একটুখানি দামী ।
দেখো কেমন বই লিখেছি!", ধরিয়ে দিলেন হাতে।
"পড়লে কিন্তু মজা পাবে, সকাল-দুপুর-রাতে !
সই করে দি, মূল্য দেবে - দুশো টাকা মাত্র
বইটা বিনামূল্যে, কারণ এখন তুমি ছাত্র। "
______________________________________________________________
--------------------------------------------------------------------------------------------------------

[১৫ই এপ্রিল , ২০২৪]



Wednesday, December 27, 2023

অন্যমনস্ক

নিয়মিত ল্যাবরেটরির কাজের ফাঁকে আমরা কয়েকজন বন্ধু মাঝে মধ্যেই চা-কফির আড্ডায় জমায়েত হই । কখনও CCD র পেছনের ক্যান্টিন , বা অ্যাকাডেমিক ক্যান্টিন ।  একেকদিন এর পেমেন্ট এক একজন করি। আমরা বলতে আমি, কিংশুক, বিধায়ক, অভিদীপ, ঋতমা, অর্নেশ আর তনয়। সেদিন গিয়েছি  CCD র পাশের ক্যান্টিনে । কথা হচ্ছিল বসন্ত বিলাপ সিনেমা নিয়ে । বিধায়ক গল্প করতে করতেই অন্যমনস্ক হয়ে পেমেন্ট করতে গিয়ে এক গন্ডগোল বাঁধায় , যা সামলে উঠতে আরও মাসদুয়েক লেগেছিল, অনেকের যৌথ উদ্যোগে। টানা দু মাস সেই ক্যান্টিনে সিঙ্গাড়া, বাজে চা আর কচুরী খেয়ে আমরা বিধায়ককে সে যাত্রা বাঁচিয়ে নিয়েছিলাম। সেই গল্পই নিচে বলছি । 




বিকেল হলেই কফির টানে আড্ডা দিতে ছুটি 
পড়াশোনা সব ভুলে যাই, এক জাগা তে জুটি,
রাজনীতি বা খেলাধূলা, নয়তো ভ্রমণকথা 
কেউ থাকে চুপ, কারো মনে - ব্যর্থ প্রেমের ব্যথা!

এমনই এক দিনে,
চা-সিগারেট কিনে,
মোরা কয়জন গল্পেতে মশগুল!
প্রেমিক ছেলের মন,
কাঁদলো কিছুক্ষণ,
তাইতো সেদিন করলে বড় ভুল!

 হয়েছে যা বলি শুনুন, প্রেমিক ছেলের কথা 
খানিক দূরেই দেখতে পেল, দাঁড়িয়ে "মনের ব্যথা"
চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে চোখ টেপা তার হাসি 
- "তোরা দাঁড়া আমি শুধু একটু ঘুরে আসি"
বলেই ছেলে পা বাড়িয়ে ফিরে দাঁড়ায় থমকে 
ভ্যাবলা হয়ে আমরা সবাই, দূরে তাকায় চমকে!

"আজকে আমিই খাওয়াই তোদের,
ষাট টাকা তো নাকি?
অনেক কথা জমে আছে, 
তাকেই বলা বাকি!" 

অনলাইনে পেমেন্ট দেবে, সে কী মেজাজ রাজার!
তাড়াহুড়োই শূন্য বেড়ে, দিলেন ছয়-হাজার!

Monday, October 29, 2018

রোগমুক্তি

মস্ত বাড়ি, ভর্তি লোকে , যৌথ পরিবার
তিনতলাতে একলা বুড়ি, কেউ নিল না ভার
দিনে রাতে দুবেলাতে খাবার দিতে আসে
ভালোবেসে ডাকলে পরেও কেউ বসে না পাশে |

কাজের মাসি দেখতে পেলে , খাবার দিতে এসে
মুখ থুবড়ে লুটোয় বুড়ি এলোমেলো বেশে
খবর যেতেই গোটা বাড়ির সবাই হুলুস্থূল
কী যে হলো বুড়ির, কেউ পায় না ভেবে কূল
বড় ছেলে দলিল খোঁজে, ডেকে আনে মোক্তার
পূজোর মাঝে একী বিপদ, ছুটে এলেন ডাক্তার
নাড়ি টিপে বললে যে সে, চোখে মোটা কাঁচ
আয়ু যে তাঁর ফুরিয়ে এলো, ঠিক করেছি আঁচ |

বাড়ে আদর, যত্ন সেবা, ওষুধ নিয়ম মতো
বুড়ির জন্য ভালবাসা উপচে পরে কতো
বুড়ি এবার বায়না করে পাড়ার পুজোয় যাবার
দেখবে চেখে অল্প করে, হরেক রকম খাবার
আটপৌরে শাড়ি পড়ে, চলল পুজোয় পাড়ায়
আহ্লাদে "চার কুড়ি" তখন কুড়ির ভিড়ে দাঁড়ায় !

ভিড়ের মাঝে ভিড় ঠেলে সে খেল পূজোর ভোগ
বললে বুড়ি - "এবার আমার সেরে গেছে রোগ |"

মনে মনে ভাবলে - পুজোয় রাখবে আমায় বন্দী !
আমি মানুষ সরল হলেও, কেমন ছিল ফন্দি !

Monday, October 8, 2018

সহোদর

শোনো, একটা গল্প বলি,  তারা দু'ভাই-বোন
আকার আছে, প্রকার আছে, জলের মতো মন |

বিপদেরই গন্ধ পেলে, মিলবে তাদের দেখা
কখনো হাত ধরে, কখনও বা একা |

ভাঁড়ার ঘরের শূন্যতাতেও সদাই প্রস্তুত
ভোজবাড়িতে শুরুর পাতে তারাই দেবদূত

দশাবতার বললে, তাদের বলা হবে কম
যেমনভাবে চাইবে পেতে, রূপ নেবে মোক্ষম

যে পোশাকে সাজিয়ে দেবে হবে মানানসই
তাদের বাড়ি যেথায়, সেথা, সূর্যের আলো কই ?

তবু তাদের রূপের ছটায় আর সকলে ম্লান
মন্দ লোকের কটু কথায়, বন্ধ তাদের কান |

কপাল যদি পোড়ে তবু কী এসে যায় তাতে
ভালোবেসে টানবে মানুষ, খাবে একই পাতে !

যুগে যুগে তাদের পেয়ে. মানুষ বড়ই সুখী
ভাইয়ের নামটি যতি  আর বোনটি চন্দ্রমুখী ||


Monday, February 22, 2016

অন্য ঘুম

নতুন একটা ঘুম ঘিরে ধরে 
রাত আগলে পৌঁছে যাই ভোর 
এই স্বপ্ন না দিনের না রাতের 
সর্বদা মজে থাকি বিভোর ||

এ ঘুমে ঘুমিয়ে পড়ি যতো 
ততোই যেন জড়িয়ে আসে চোখ 
স্বপ্ন যদি ভাঙে কোনভাবে 
তবে আমায় ঘিরে ধরে শোক ||

এ ঘুমে লাগে না পালঙ্ক 
চায় না কোনো ঘুমের ওষুধ 
এ শুধু ভেসে ভেসে চলা 
এই স্বপ্নে হয়ে থাকি বুঁদ ||

এ ঘুম জড়ায় না ক্লান্তিতে 
এ ঘুমে লাগে না পাশবালিশ 
এ স্বপ্নে যতোই কাটুক সময় 
কখনো জমবে নাকো নালিশ ||

এ ঘুম পুরনো হয় না
এ ঘুমের ঘটে না ব্যাঘাত 
এ স্বপ্ন ভাঙা জোড়া যায় 
এ স্বপ্নে চরিত্র-সংখ্যা সাত ||

এ ঘুম অভিনয়ের দেশ 
বাঁশিতে সরোদে হোক বা সেতারে 
এ স্বপ্ন নতুন স্বপ্ন দেখায় 
এ স্বপ্ন তরঙ্গে রয় বেতারে ||

এ ঘুম কতখানি ভালবাসার 
এই ঘুমে কতো জীবন রাঙে 
এ স্বপ্ন সুরে তালে বাঁধা 
আমার এ ঘুম যেন না ভাঙে ||


_______________________________________________________________________

Tuesday, February 9, 2016

পারস্পরিক

কলকাতা স্বপ্ন দেখে লন্ডনের মাটি
সারা দেহ ঢেকে যাবে বরফের গুঁড়ো
প্রবাসে যে বাঙালিরা গেড়েছেন ঘাঁটি
দুরবিনে হাতড়ান বইমেলার চুড়ো |

আশায় বাঁচে চাষা

এক বিঘে খন্ড জমি পুকুরের পাশে
পুকুরে জল নেই আছে শুধু পাঁক
কৃষকের মন নেই লাঙল আর চাষ-এ
কেউ বুঝি শোনে না বিধাতার ডাক |

Thursday, November 19, 2015

শুভ জন্মদিনে

এদিন আমার সেই সাধারণ নয় 
সবার মতোই বাড়লো বছর এক ,
কার্ত্তিক তার শেষ কাঠিটা ছোঁয় 
অঘ্রাণ বলে আমায় চেয়ে দেখ |

নতুন ধানের বহর ওঠে ক্ষেতে 
নবান্নে তার প্রাণের কাঠি খানি ,
আমি শুধু মাতছি আনন্দেতে 
শুভেচ্ছাতে ভরেছে মোর দানি |

কার যেন এক চিঠি এলো হাতে 
বুক ভরে তার গন্ধ নিলেম প্রাণে ,
কথা ছিল থাকব যে তার সাথে 
বলব কথা ছড়ায় গানে গানে|

যতনে সে সাজায় উপহার 
আধেক তারই রইলো সেথায় পড়ে ,
ভালবাসায় হলেম আমি ভার 
পা বাড়ালাম তেইশতম ঘরে |

কাছে পিঠে পেলেম সকল সব-এ 
কাছের সকল মুখের পানেই চায় ,  
ফিরব ঘরে আবার যেন কবে 
হবে দেখা আমি অপেক্ষায় ||

_______________________________________________________________________

২৩তম জন্মদিনে 



Tuesday, October 6, 2015

আনমনা

সেদিন যখন বিকেল বেড়ে আঁধার গেল ছেয়ে
আমি তখন গেলেম আমার নীল সরণী বেয়ে
সে পথ গেছে কোথায় সুদূর নেই যে তাহার শেষ
দুপাশ তারই যায় না দেখা শুকনো পাতার দেশ
অন্ধ হয়ে চলছি ছুটে শুনছি কারই সুর
বাড়ছে আঁধার বাড়ছে সে টান সুর যে সুমধুর
গন্ধ আসে মন মাতানো কেমন যেন চেনা
ঠিক চিনেছি এর সাথে তো আমার লেনাদেনা
বিধঁলে কাঁটা পায়ের তলে ক্লান্তি এসে ধরে
গন্ধ হলো তীব্র, সে সুর থামল পথের পরে
নরম শীতল শান্ত প্রলেপ নামলে এসে শিরে
ফিরে এলো রং-এর খাতা আঁধার গেল সরে |

Saturday, September 26, 2015

লোডশেডিং

ছুটির দিনে ছেলেরা সব 
ভলি খেলায় মগ্ন
বাজলে পরে সাতটা সাড়ে 
শুরু খাওয়ার লগ্ন ||

খিদের চোটে ছুটল সবাই 
ভিড় বাড়ালো মেস-এ 
নিরামিষে আলুর ঘ্যাঁট আর 
রুটি-ডাল একপেশে || 

আমিষেতে ডেকচি ভরা 
বিরিয়ানি দেখে 
কেউ বা বলে ঠোঁটটা চেটে 
একটু দেখি চেখে ||

শুরু হলো চেচামেচি  
মাংস নাকি ছোট 
 কারো হাতে একটা থালা 
কারো হাতে দুটো ||

হঠাত হলো অন্ধকার 
দেদার ছোটাছুটি 
যাচ্ছে না যে কিছুই দেখা 
চলছে ভাজা রুটি ||

মোমবাতিটা জ্বালিয়ে পরে
চক্ষু ছানাবড়া  
বিরিয়ানি আছে পড়ে
মাংসগুলো ছাড়া !

উৎস : গুগল ইমেজস 

Friday, September 18, 2015

স্বপ্ন

নতুন আলাপ নতুন কথা 
নতুন লাগে সব 
নতুনভাবে বাঁচতে চেয়ে
উঠলো ফুটে রব ||

ভোরের আলো নতুন রঙে 
নতুনভাবে আসে
এক মুহূর্ত চলবে না যে 
খুব থাকা চায় পাশে ||

কথা দিয়ে বুনে ফেলে
কথার মায়াজাল 
গুনগুনিয়ে গানের সুরে 
করছে হরতাল ||

ভারাক্রান্ত মনের কথা 
বেরোয় একে একে 
নতুন চোখে সত্যি ভেবে 
অবাক চোখে দেখে ||

ঘুম ভেঙ্গে যায় চমকে উঠে 
ঝোড়ো হাওয়া বয় 
চোখের পাতা ভিজলো খানিক 
পাশ ফিরে সে শোয় ||

Tuesday, September 15, 2015

সোঁদা মাটির গন্ধ

তখন সবে বেরিয়েছি যে পরীক্ষা হল ছেড়ে
বাইরে আঁধার ঘনঘটা মেঘ এসেছে তেড়ে 
হাওয়ার সাথে তাল ঠুকে সে উঠছে ভীষণ নেচে 
পেখম মেলে পথের মাঝে ময়ূর হেঁটে গেছে 
সবাই তখন আনন্দেতে করছে গুঞ্জন 
বৃষ্টি এবার আসবে ঝেঁপে ভিজবে তনু-মন 

ঘরে ফিরি পা চালিয়ে ভিজব দুহাত ভরে
উড়ছে ধূলো উড়ছে পাতা সমীরণের ঘোরে 
দু এক ফোঁটা ততক্ষণে ঝরা হলো শুরু 
বাজের তখন ভীষণ দাপট বুকটা দুরু দুরু 
কেউ বা ছাতা খুলল ভেবে ভিজবে না সে জলে 
ঝোড়ো হাওয়া ওড়ালো সে ছাতা নিজের বল-এ 

ভিজব বলে ঘর থেকে বেরিয়েছি যেমনি 
মেঘ যে গেল সরে, দিয়ে ভীষণ কাঁপুনি  
অবাক চোখে চেয়ে দেখি মেঘ পালালো ছুটে 
মিঠে রোদের হাসি আবার উঠলো মুখে ফুটে  
তারপরেতে বৃষ্টি-বাতাস সবই হলো বন্ধ 
পাওনা বলতে একটুখানি সোঁদা মাটির গন্ধ ||


ছবি : হোস্টেল ১ , আই. আই. টি. কানপুর

আমার খুব পছন্দের গান রইলো |

কিছু শব্দ

কিছু শব্দ ভালবাসায় ভরা 
কিছু শব্দ হৃদয় দিয়ে বাঁধে 
কিছু শব্দ বারে বারে পড়া
কিছু শব্দ চোখের জলে কাঁদে ||

কিছু শব্দ বোঝায় অনেক কথা
কিছু শব্দ সবার মুখে মুখে
কিছু শব্দে প্রাণের শত ব্যথা 
কিছু শব্দ কান্নাভেজা চোখে ||

কিছু শব্দ সিলিং থেকে ঝোলে 
কিছু শব্দ অন্ধকারের কোণে
কিছু শব্দ মনের যে দ্বার খোলে
কিছু শব্দ আটকে থাকে ফোনে ||

কিছু শব্দে চিঠি চালাচালি 
কিছু শব্দে নতুন জীবনদান 
কিছু শব্দে ভরে পাতার ডালি 
কিছু শব্দ জেগে ওঠে প্রাণ ||

কিছু শব্দ সবার জন্য নয় 
কিছু শব্দে আঁতকে ওঠে বুক 
কিছু শব্দে মনের মাঝে ভয় 
কিছু শব্দে মনে পড়ে মুখ ||

কিছু শব্দ প্রিয়জনের মাঝে 
কিছু শব্দ স্বপ্নে আসে ফিরে
কিছু শব্দ প্রিয়জনে খোঁজে
কিছু শব্দ ঢেউ জাগায় তীরে ||

কিছু শব্দ ফিরিয়ে নিতে চায় 
কিছু শব্দে ওলটপালট মন 
কিছু শব্দে থাকবে না যে সায় 
কিছু শব্দ চাইছে মনের কোণ ||

Sunday, September 13, 2015

মামণির জন্মদিন

মামণির জন্মদিনে রইলো অনেক শুভেচ্ছা আর ছোট্ট নিবেদন:
পাকামির জন্য আমার ডাকনাম হয়েছে "জেঠু" |



মায়ের হাসি ভালোবাসি 
ভালোবাসি খেতে
মায়ের মত মামণিও 
আছে আঁচল পেতে |

দেখা হলে বলবে হেসে
হংস-বাবু কই
হংস-জেঠুর কঠোর জবাব 
পড়ছি বসে বই |

তোমার জন্য রেঁধেছি যে 
চিংড়ি মালাইকারী 
চিকেন আছে, পোলাও আছে 
বিরিয়ানির হাঁড়ি |

দিদিভাই পাশেই দাঁড়ায় 
চেয়ে থাকে পাতে 
বলে বাবু পেট খারাপে
ছুটবে গাড়ু হাতে |

মামণি তাই ধমকে ওঠে 
ও কি ও কি বাবু 
বাড়ি গিয়ে খুব পেটাবো 
খাবে দুধ-সাবু |

পাশে থেকে অভিরুদা 
ধমকে উঠে বলে
দুধ-সাবু নয় ,দুধ-সাবু নয় 
পেট ভরাবে জল-এ |



Saturday, August 15, 2015

নরেন্দ্রপুর জীবন


মাঝে মাঝেই পুরনো কথা মনে পড়লে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেখানে | কিন্তু যখন সে উপায় থাকে না, তখন অন্যভাবেই ফিরে দেখি, সকলকে দেখাই আমাদের এক সুতোই গাঁথা জীবনশৈলী - যার একটা নাম আছে নরেন্দ্রপুর | 


|| নরেন্দ্রপুর জীবন ||

নরেন্দ্রপুর বাবা মায়ের স্বপ্ন দেখার ঘর,
ছোট বড় থাকে সাথে কেউ নয় যে পর |
নরেন্দ্রপুর অন্য জগৎ নতুন জীবন শুরু,
একই সাথে কান্না-হাসি ছাত্র-শিক্ষাগুরু |

নরেন্দ্রপুর প্রথম গেলে বিদ্যার্থী ব্রত,
নতুন গীতা,নতুন ধুতি, পাঞ্জাবিটা ছোট |
নরেন্দ্রপুর ফুলের বাগান ফুলের ঝুরি হাতে,
দশটা মানেই নিভলো বাতি ঘুমিয়ে পড়া রাতে |


নরেন্দ্রপুর প্রথম প্রথম প্রণাম করার ঘটা,
বয়সটুকু বাড়লে খানিক ঝোপে ঝাড়ে ছোটা |
নরেন্দ্রপুর সকাল সন্ধে দুবার পূজা পাঠ,
ফুটবল আর ক্রিকেট খেলা সবুজ ঘাসের মাঠ |


নরেন্দ্রপুর কানে বাজে "উসুল করে খাবি"
হরেকরকম খাবার এমন আর কি কোথাও পাবি !
নরেন্দ্রপুর আম কাঁঠাল আর জামরুলের সারি,
চটি হাতে জামরুল নয় আর একপাটি পাড়ি |


নরেন্দ্রপুর পুকুরধারে বাঁশবাগানের ভূত,
ফুলে ভরা রঙিন বাগান নেইকো মালীর খুঁত |
নরেন্দ্রপুর স্কুলের পাশে রাজহংসের ডাক,
খরগোশ, মাছ, কচ্ছপ আর নানা পাখির ঝাঁক |


নরেন্দ্রপুর রাতের বেলা গোল্ঘরেতে ঘন্টা,
পড়লে মনে মায়ের কথা কেঁদে ওঠে মনটা |
নরেন্দ্রপুর শয়তানিতে আছে সাজা-শাস্তি !
মারটি খেলে রাতের বেলা বরাদ্দ যে মিষ্টি |


নরেন্দ্রপুর নটা দশে আসেম্বলি হল,
দেরী মানে নীল ডাউন দুষ্টু ছেলের দল |
নরেন্দ্রপুর বৃষ্টি দিনে কিটো পড়ে স্কুল,
বিকেল হলেই জল কাদাতে ফুটবলে মশগুল |


নরেন্দ্রপুর স্টাডি টাইম রিক্সা বাজায় ভেপু ,
পেনটি হাতে ছোটা শুরু বিচ্ছু থেকে ডেপো |
নরেন্দ্রপুর পেটখারাপে রুগীর ঝোলের থালা,
পেটের ব্যথায় ক্রেপ ব্যান্ডেজ এ যে ভীষণ জ্বালা |

....to be continued


Tuesday, August 11, 2015

তোমার সাথে

তোমায় নিয়ে পদ্য লিখব, তোমায় নিয়ে গল্প
মনে ধরি ভালবাসা 'লেখা'টাতে অল্প
তোমায় আমি গান শোনাব, আধুনিক আর রবি
খাতায় কেটো আঁকিবুকি মনে এঁকো ছবি
তোমার সাথে ঘুরে ঘুরে চষব কলকাতা
বৃষ্টি দিনে বৃষ্টি ভেজা রোদের দিনে ছাতা
তোমার সাথে কফি হাউস প্লেট ভরা চাউমিন
দু পা হেঁটে ব্যথায় তোমার পা করে চিনচিন
তোমার সাথে কুমোরটুলি, পুজো তোমার সাথে
মেলায় গিয়ে আড়াই প্যাঁচের জিলিপিটা হাতে
তোমার সাথে ময়দানেতে লেবু চা এর কাপ
সময় আর ভালবাসার রাখছি নাকো মাপ
তোমার সাথে সিমেট্রি আর কলেজ স্ট্রিটের মোড়
লুকোচুরি থাকবে আর খুলবো হাজার দোর

তোমার সাথে গানের লড়াই, আর যত সব খেলা 
তোমার সাথেই ঘর সাজানো,গড়িয়ে যে যায় বেলা
তোমার সাথেই সন্ধ্যাপ্রদীপ , আরতির ধুনো ধূপ 
চোখে চোখে চেয়ে থাকি, মুখটি করে চুপ |
তোমার সাথে গল্পে মাতি হয় না কথা শেষ 
বেশ মনে হয় তুমিই যেন "সব পেয়েছির দেশ" |

কালবোশেখী

ভর দুপুরে ঘুম ভাঙ্গে যেই তড়াক করে উঠি
ঝড় উঠেছে তাই বলে সব করছে ছোটাছুটি
কারোর হাতে ঝুড়ি কেউ ছোট থলে হাতে
পড়বে ঝরে আম লিচু সব কুড়িয়ে নেবে তাতে 
ছোট্ট শিশু ছুট্টে চলে হাতের মুঠোই ভরসা
মেঘ ছেয়েছে কালবোশেখীর এ যেন সেই বর্ষা 
বাঁশ ঝাড়টা এপাশ ওপাশ পেন্ডুলামের মত
দুলছে তারা হাওয়ার সাথে আনন্দ তার কত !!
মাঝিরা সব নৌকোগুলো ভিড়িয়ে নিলে ঘাটে
জাল গুটিয়ে জেলের দল ছুট লাগালো বাটে
বাবুই পাখির বাসাগুলো তালগাছেতে লেগে
হালকা তবু উড়ছে নাকো বইছে হওয়া বেগে
শাড়ি কাপড় তুলতে গিয়ে গিন্নি হলো পাগল 
একটা তারই মাটির ওপর বিছিয়ে শুয়ে ছাগল 
হঠাত্ করে বৃষ্টি এলো ছেয়ে মুষলধারে
বাচ্চা সাথে হাঁসগুলো সব ঢুকলো ছুটে ঘরে ||

Monday, August 10, 2015

CMI

উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ক্লাস ১২ শেষ করে যখন হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি ফিরলাম | তখনও জানি না এরপর কোথায় যাব , কি নিয়ে পড়াশোনা করব , সামনের দিনগুলো কেমন হবে ! ডায়েরিতে সবাইকে দিয়ে "বিদায়ী"( বিদায় জানাবার সাথে সাথে একে অপরের জন্য কিছু কিছু লিখে দেওয়া ) লিখিয়ে , স্কুলের জামায় ওপর থেকে নিচে ভরাট করে সবাইকে দিয়ে ছবি আঁকিয়ে , বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে সব স্মৃতি সাথে করে বাড়ি ফিরেছি | এরই মধ্যে CMI(Chennai Mathematical Institute)- এর প্রবেশিকা পরীক্ষার সিট্ পড়ল সেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনেরই কলেজে |
মোটামুটি আশা রেখেছিলাম যে আমি অর্ধেকের বেশি প্রশ্নের উত্তর করতে পারব না | হলোও তাই | কিন্তু তিন ঘন্টা সময় কাটাব কি করে সেটা ভেবে উঠতে পারছিলাম না | আমি চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম ওই হল-এ আমি একা ওরকম নেই | সবাই একে অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে | হঠাত ভাবলাম একটা কবিতা লিখে ফেললে কেমন হয় | যেমনি ভাবা তেমনি কাজ | কিন্তু পাতা ছিল না লেখার | তাই আডমিট কার্ডের পেছনেই লেখা শুরু করলাম |

কাটে না সময় শুধু পাখার আওয়াজ 
কেউ কেউ একমনে করে চলে কাজ 
চশমাটা খুলে কেউ বড় হাই তোলে 
জানালার পর্দারা একমনে দোলে 
সেদিকে তাকিয়ে থাকে উদাস দু-চোখ 
কেউ বলে - "স্যার নেই তাড়াতাড়ি টোক |"

কোশ্চেন পড়ে কেউ করে হুশহাশ 
কেউ বা গুনছে পাখি পেয়ে অবকাশ 
কেউ বা জখম পেয়ে অঙ্কের আঘাত 
টিচারের ঘুম-চোখ পেত যদি খাট 
কেউ পেন কামড়ায় কেউ আঁকে ছবি 
অঙ্ক করতে এসে কেউ হলো কবি 

কাটে না সময় চলে ঘড়ির কাঁটা 
স্তব্ধ সবার মুখে কুলুপ আটা 
অসহ্য গরম এখন ক্লান্ত সবাই 
ঘন্টা জানালো - শেষ হলো CMI ||